Feeds:
Posts
Comments

Archive for April, 2008

সাম্প্রতিক কালের সাড়াজাগানো চলচ্চিত্রের মধ্যে নিঃসন্দেহে “তারে জামিন পার” অন্যতম।অনেক দেরিতে হলেও অবশেষে দেখা হল।

তারে জামিন পার মূলত এক বিশেষ ধরণের শিখন প্রতিবন্ধীদের (Learning Disable ) উপজীব্য করে বানানো চলচ্চিত্র। ৮-৯ বছরের ঈষাণ শর্মা (দার্শিল সাফারি) পড়াশোনায় দুর্বল হওয়ার কারণে ঘরে, বাইরে সব জায়গায় পদে পদে লাঞ্ছিত। সকলেরই ধারণা ইচ্ছাকৃতভাবে ঈষাণ পড়াশোনা করে না। ক্লাসে বসে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকে বাইরের দিকে। অবনতির চূড়ান্ত পর্যায়ে সাধারণ স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হল বোর্ডিং স্কুলে। সেখানেও অবস্থা তথৈবচ। হঠাৎ করেই একরাশ শীতল হাওয়ার মত স্কুলে আসলেন নতুন পার্টটাইম ড্রয়িং শিক্ষক নিকুম্ভ স্যার ( আমির খান ), যিনি নিজেও ঈষাণের মত এক দুঃসহ শৈশব কাটিয়েছেন, ডিসলেক্সিয়া রোগের রোগী হয়ে।তারই সাহচর্যে বেড়ে ওঠে ঈষাণ, সব প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে।

ছবি হিসেবে গড়পড়তা বলিউডি ছবির চেয়ে অনেক এগিয়ে “তারে জামিন পার”। আমির খানের প্রথম পরিচালনা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। অধিকাংশ শটেই যত্নের ছোঁয়া রয়েছে।কাহিনীর মধ্যে কিছুটা গতির ভারসাম্যহীনতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। যে গতিতে ঈষাণের দুর্দশা চিত্রায়িত হয়েছে, সে তুলনায় একটু বেশি দ্রুত সেই অচলাবস্থাত উত্তরণ দেখানো হয়েছে। আগের যুগের সেই বাংলা কিংবা হিন্দি ছবির মত এক গানেই কিংবা সেলাই মেশিন চালাতে চালাতে নায়ক নায়িকা বড় হয়ে যাওয়ার মত, এক গানেই রাতারাতি ঈষাণের উত্তরণ কিছুটা তাড়াহুড়া বলেই মনে হয়। সর্বোপরি, সিনেমার কাহিনীর বাধন এত শক্ত ছিলো যে, আরো ১৫-২০ মিনিট দৈর্ঘ বাড়ানো হলে তা সিনেমার বিশেষ সৌষ্ঠবহানি করতে বলে মনে হয় না।

সিনেমাতে সকলেই মোটামুটি ভালো অভিনয় করেছেন। তবে যার কথা বিশেষভাবে বলতে হয় তিনি ঈষাণ অর্থাৎ দার্শিল সাফারি। জীবনের প্রথম ছবিতেই তিনি বাজিমাত করেছেন। শিখন প্রতিবন্ধী শিশুর চরিত্রে তার অভিনয় বিশেষত মুখের যে অভিব্যক্তি তিনি দিয়েছেন তা অসাধারণ। আমির খান স্বভাবসুলভ ভাবেই ভালো অভিনয় করেছেন, তবে তার চরিত্রের একদম শুরুতে গানটার প্রয়োজনীয়তা ঠিক বোঝা যায়নি, ওরকম নর্তন কুর্দন বাদ দিলে, ছবিটা আরো বাস্তবসম্মত হত বলেই বোধ হয়।

তবে সামগ্রিকভাবে তারে জামিন পার, মনে দাগ কেটে যাওয়ার মত ছবি। আপনি একবার হলেও ভাবতে বাধ্য হবেন আপনার পাশের শিশুদের নিয়ে, তাদের মধ্য লুকানো প্রতিভা নিয়ে। শিখন প্রতিবন্ধকতা আমাদের সমাজের এক পরিচিত রোগ অথচ আমরা খুব কম লোকই সে ব্যাপারে জানি। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই চলচ্চিত্রের ভূমিকা নিঃসন্দেহে তুলনাহীন।

সর্বোপরি, সময় এবং পয়সা উসুল হওয়ার মত একটি ছবি। অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়ত এমনি আরো কিছু মাস্টারপীস আশা করতে পারি আমিরের থেকে।

Read Full Post »

Dream Scene -01

স্বপ্নদৃশ্য – ০১

আমি স্বপ্ন দেখি কিছু পরিপার্শ্বের, কিছু জায়গার, কিছু দৃশ্যের। যেখানে হয়ত আমি কোন দিন যাবো না …… আবার যেতেও পারি।

কেমন হতে পারে সেই দৃশ্য গুলি ?

আজ শুরু করি এক শহরের কথা দিয়ে।

শহরের নাম প্যারিস ( বা উচ্চারণে প্যারী )। কোন এক সন্ধ্যা। একটু আগেই বৃষ্টি থেমে গিয়েছে।চারিদিকে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। রাস্তা এখনো ভেজা। চারিদিকে হলুদ রঙের বাতি জ্বলছে।ভেজা রাস্তায় হলুদ আলোর প্রতিফলন। দূর থেকে ভেসে আসছে, কেনি জি র স্যাক্সোফোন।দূর নদীতে ছায়া পড়ছে আইফেল টাওয়ারের।হয়তো নদী তীরেই বসে আছি আমি।

– ১৬ই ডিসেম্বর,২০০৭ ( বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট )

– ঢাকা,বাংলাদেশ।

Read Full Post »

NishKabbyo – Final Part

নিশিকাব্যঃ শেষ পর্ব

তারপর কেটে গেল কতগুলো বছর
রাত আর আমাদের জীবনে আসে না
আমরা বাঁচিনা সেই তারার আলোতে, সেই নক্ষত্রের রাতে
খোলা আকাশের নিচে বসে শুনিনা সেই বাঁশির শব্দ
তুমি আর জিজ্ঞেস করো না ,”রাত মানে কি ?”
হয়ত আমি বলতে চেয়েছিলাম
রাত মানে হেরে যাওয়া,
রাত মানে অব্যক্ত ব্যথা
রাত মানে অনেক বলেও রয়ে যাওয়া
না বলা কথা।
ভালোবাসার সমাধি এই পৃথিবীতে
রাত আর তাই কোনদিনই ফিরে না।

নিশিকাব্য এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। রাত্রি অনেক বড় ব্যপার। প্রত্যেকটা রাত আসে একটা নতুন রঙ নিয়ে।প্রতিটা রাতের থাকে আশ্চর্য সব কাহিনী।সে কাহিনী আমরা কেউ কাউকে বলতে পারি না। শুধু নিজেদের রাতে আমরা মিলে মিশে একাকার হয়ে যাই অন্ধকারের সাথে। প্রতিরাতেই তাই লেখা হয় নতুন নিশি কাব্য।

Read Full Post »

NishiKabbyo -02

নিশিকাব্য-০২

কোন এক নক্ষত্রের রাতে জিজ্ঞেস করেছিলে আমায়
“তুমি কি জানো রাত্রি কি দিয়ে তৈরী হয় ? ”
চুপ থেকেছিলাম আমি
নাহ ! সত্যি আমি জানতাম না তখন
এতগুলো বছর কেটে গেলো
কি আশ্চর্য ! এখন আমি জানি !!
রাত্রি তৈরী হয়
তোমার আর আমার কথা দিয়ে,
আমাদের মাঝে বয়ে চলা নিরন্তর নৈঃশব্দ দিয়ে
তোমার হাসি দিয়ে
আমার অসহায়ত্ব দিয়ে
তোমার কপট রাগ দিয়ে
আর…আর…আর

আর

আমার সংগোপনে ফেলা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে

নিছকই ফালতু একটি কবিতা, যা মাথায় আসে তাই লেখা। তিলকে তাল বানানোর সমস্ত প্রচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

Read Full Post »